দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগে নির্ধারিত ৩ মে’র পরিবর্তে আগামী ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় টিকার মধ্যে বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি ও এমআরসহ ছয়টি টিকার মজুত বর্তমানে শূন্য রয়েছে এবং বাকি দুটি টিকার মজুত দিয়ে জুন মাস পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শূন্য মজুত থেকেই কাজ শুরু করতে হয়েছে—এটি সত্য। তার দাবি, বিগত সরকারের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা হাম-রুবেলাসহ জরুরি ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এরই মধ্যে ২০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন দেশে আনা হয়েছে। সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে সরকার সিঙ্গেল ডোজের পরিবর্তে ১০ ডোজের মাল্টিডোজ ভায়াল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রুমিন ফারহানার দেওয়া মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৪১ জন। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে।
টিকা সংকটের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা নাকচ করে মন্ত্রী জানান, গ্যাবি (Gavi)-এর মাধ্যমে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে ভ্যাকসিনের মজুত স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতির কারণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা দ্রুত পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
অধিবেশনের শুরুতে রুমিন ফারহানা পোর্টার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন এবং মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পাঁচ দিন আগে থেকেই পোর্টারদের বেতন পরিশোধ শুরু হয়েছে। এছাড়া সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প
হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া
শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন