কালকিনি-ডাসার প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পালরদ্দী নদীর কোল ঘেঁষে যাওয়া আলিনগর ইউনিয়ন ও কালকিনি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পখিরা গ্রামের সংযোগস্থল ৫শ মিটার সড়কটি ধসে পড়ে গত চার বছরের বেশি সময় ধরে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন কোনমতে চলছে যানবাহন। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে সড়কের এই অংশে নানান ধরনের দুর্ঘটনা। তারপরেও কালকিনির ফাসিয়াতলা-লক্ষ্মীপুর-পখিরা সড়কটি সংস্কারে নেই কোন উদ্যোগ। আসছে আগামী বর্ষা মৌসুমে সড়কটি বিলীন হওয়ার শঙ্কায় এলাকাবাসী। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই সড়কে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখার কথা জানান। সোমবারে সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালকিনির ফাসিয়াতলা হয়ে লক্ষ্মীপুর-পখিরা সড়কটি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার পথে। বেশকিছু অংশে সড়কের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাও দায় হয়ে পড়েছে । পাকা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত করেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়া পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দেখা দিয়েছে সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গন। এতে দিনের বেলায় কোনমতে চলাচল করা গেলেও সন্ধ্যা হলে বাড়ে আতঙ্ক। সড়কটি দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নেয়া হয় রোগীদের। বিকল্প পথ ঘুরে যেতে পাড়ি দিতে হয় আরো ৭ কিলোমিটার। এতে ভোগান্তির শেষ নেই চলাচলকারীদের। কালকিনির লক্ষ্মীপুর-পখিরা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন এনায়েতনগর, আলীনগর, লক্ষীপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি কালকিনি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পালরদী নদী ভাঙ্গনে ক্ষতি গ্রস্থ হওয়া ৫০০ মিটার অংশে নদী শাসন ও সড়ক মেরামত করা না গেলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
নদীতে বালু উত্তোলন, বৃষ্টি ও নদীর স্রোতে সড়কটির বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে রাস্তাটি এতটাই সরু হয়ে পড়েছে যে, অটোরিকশা বা ভ্যান চলাচলের সময় চাকা রাস্তার একেবারে কিনারায় চলে যাচ্ছে। অটোরিকশা ও রিকশা-ভ্যান অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ওই ভাঙনকবলিত অংশ অতিক্রম করছে। রাস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় পুরো সড়কটি নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী সিয়াম লাবিব জানান, এই সড়কটি ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সড়ক ধসে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে রাতে এই পথে চলাচল করা মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়ার সমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভ্যানচালক জানান, “পেটের দায়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যেতে হয়, কিন্তু প্রতিবারই মনে হয় এই বুঝি নদীতে পড়ে গেলাম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙন দেখা দিলেও তা রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ভাঙন আরও তীব্র হয়ে মূল সড়কটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। অনতিবিলম্বে সড়কটি সংস্কার এবং নদী শাসন করে ভাঙন রোধ করা না হলে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি যে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে এই সড়কটি মেরামত ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন জানান, সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে ভাঙ্গরোধে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে জনগনের স্বার্থে।


আরও পড়ুন
নড়াইলে পাম্প থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে নারীর মৃত্যু
ডাসারে বাড়ির নিচের গুদাম থকে ৩৭ হাজার লিটার তৈল জব্দ
মাদারীপুরে ২০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারায় বিক্ষোভ