February 28, 2026
Saturday, February 28th, 2026, 8:47 pm

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত, শাহজালালের নির্দেশনা

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ওই অঞ্চলের সব রুটে ফ্লাইট আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানে ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে এসব রুটে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো—

১. ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য এসএমএস, ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে যাত্রীদের আগাম জানাতে হবে।

২. এয়ারলাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট সম্পর্কে স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য দিতে হবে, যাতে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যায়।

মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর দপ্তরের কাছাকাছি আঘাত হানে। তবে হামলার আগেই তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যৌথ হামলার জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে পাল্টা প্রতিহামলা চালায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে তেহরান।

এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার ঘটনা ঘটে।