প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুসংগঠিতভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দারিদ্র্য দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা সম্ভব।
শনিবার (৭ মার্চ) যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা, মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে পবিত্র মাহে রমজানের ১৭তম দিনে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে আনুমানিক চার কোটি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে তাদের অনেকেই পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।
তিনি আলেম-ওলামা ও মাশায়েখদের উদ্দেশে বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারণা যদি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়, তাহলে বিত্তবান মানুষদের এ বিষয়ে সচেতন করতে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যাকাতকে সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশকে ইসলামী বিশ্বের সামনে একটি মডেল হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না হওয়ায় এর প্রকৃত প্রভাব দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র এই মাস ত্যাগ, সংযম, রহমত ও বরকতের মাস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রমজান এলেই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন এবং এটিকে লোভ-লাভের সুযোগ হিসেবে নেন। যারা এ ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের প্রতি তিনি মানুষের কষ্ট না বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে গতকাল ও আজ—এই দুই দিনসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের রমজানের শেষ ইফতার আয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও পড়ুন
কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে কার্গো জাহাজ
হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হটলাইন চালু: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী