Tuesday, April 21st, 2026, 2:00 pm

ফের পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব, আসছে নতুন নকশা

 

মাঠপর্যায়ের অসন্তোষ ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে আবারও পরিবর্তন আনা হচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্মে। রঙ ও নকশা পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে ধাপে ধাপে নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি সারোয়ার জাহানের স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিটভেদে শার্টের রঙে ভিন্নতা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের জন্য হালকা জলপাই রঙের শার্ট এবং অন্যান্য ইউনিটের জন্য গাঢ় নীল শার্ট নির্ধারণের চিন্তা রয়েছে। তবে সব ইউনিটের জন্য প্যান্ট খাকি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একরঙা পোশাকের পরিবর্তে সমন্বিত রঙের ইউনিফর্ম চালুর এই উদ্যোগ ব্যবহারিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিটভিত্তিক আলাদা পরিচিতি নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে লৌহবর্ণ (আইরন গ্রে) ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে মহানগর ও বিশেষায়িত ইউনিটে এ পোশাক কার্যকর করা হয় এবং পরবর্তীতে জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ে তা বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল। ওই পরিবর্তনকে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও নতুন ভাবমূর্তি তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তবে নতুন ইউনিফর্ম বাস্তবায়নের পরপরই মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকের অভিযোগ ছিল, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন রঙের কারণে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রচলিত খাকি পোশাক থেকে সরে আসায় বাহিনীর ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কাও উঠে আসে। আবহাওয়া ও দায়িত্বের ধরন বিবেচনায় পোশাকটির ব্যবহারিক উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পরিসরে নতুন ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবারও পুরো বিষয়টি পর্যালোচনায় নিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বড় ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই ধাপে ধাপে পুরোনো ইউনিফর্ম প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

এক বছরের ব্যবধানে ইউনিফর্ম নিয়ে ধারাবাহিক এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে অনেকেই চলমান সমন্বয় ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরির অংশ হিসেবে দেখছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পুলিশের জন্য একটি স্থিতিশীল, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ইউনিফর্ম কাঠামো নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এনএনবাংলা/পিএইচ