Tuesday, April 14th, 2026, 3:23 pm

বৈশাখী শোভাযাত্রা: লোকজ ঐতিহ্যে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত

 

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪৩৩। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে শোভাযাত্রাটি বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, রঙিন মুখোশ ও নান্দনিক মোটিফ, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

এবারের শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরের সূচনা ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে মোরগের এই উপস্থাপনাকে নতুন বছরের আশাবাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।

লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতিকেও বড় আকারে তুলে ধরা হয়। চার চাকার এই কাঠের হাতি বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত ছিল দোতরা। সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই বাদ্যযন্ত্রটি শুধু সংগীত নয়, বরং বাংলার মরমিয়া ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে জানান আয়োজকেরা।

শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয় পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই উপস্থাপনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির টেপা ঘোড়াও এবারের আয়োজনে স্থান পায়। আরোহীসহ এই প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর পাশাপাশি প্যাঁচা, বাঘের মুখোশসহ নানা ক্ষুদ্র মোটিফ শোভাযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ঘুরে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা অ্যাকাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।

এদিকে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভোর থেকেই কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শোভাযাত্রার সামনে ও পেছনে পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখেন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব। তাই উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।

এনএনবাংলা/