Tuesday, April 14th, 2026, 5:39 pm

মেশিন চালু রাখার তেলও শেষ, বন্ধ হলো দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

 

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের সংকটে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। রোববার বিকেলে শেষবারের মতো পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১০ মে’র আগে রিফাইনারি চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওই সময় নতুন করে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শোধনাগারে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত দুই মাস ধরে দেশে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ চালান এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী চালান মে মাসের শুরুতে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইআরএল সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (তলানিতে জমে থাকা তেল) ব্যবহার করে কয়েকদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু ৬ এপ্রিলের পর মূল মজুত শেষ হয়ে গেলে বিকল্প উৎস থেকেও আর সরবরাহ সম্ভব হয়নি।

সাধারণত ইআরএল দৈনিক গড়ে ৪,৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তথ্যমতে, পাঁচটি ট্যাংকে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক ছিল, যা ধীরে ধীরে ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, দেশে বছরে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেলসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করে এই শোধনাগার।

এনএনবাংলা/