Saturday, April 18th, 2026, 6:33 pm

পীরগঞ্জে ইউএনও’র আদেশের তোয়াক্কা নেই; অভিযান চালাচ্ছে না পুলিশ ও এসিল্যান্ড, আতঙ্কে গ্রামবাসী

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নে প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে টিওরমারী গ্রামবাসী। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গত ৫ এপ্রিল  ওসি এবং এসিল্যান্ডকে যৌথ অভিযানের লিখিত নির্দেশ দিলেও ১৩দিন  পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ৭ বছর ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রলি যোগে টিওরমারী গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ধুলাবালিতে ঘরবাড়ি ও আবাদী জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও তার প্রভাবশালী চক্রের কারণে গ্রামবাসীর জনজীবন এখন বিপন্ন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রাজ্জাকের নির্দেশে রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। গ্রামবাসীর দাবি, বালু দস্যুরা বর্তমানে গ্রামে ঘোষণা দিয়ে ট্রলিতে ছুরি, কুড়াল ও বেকি নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং কেউ বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।​

নিরাপত্তা চেয়ে ও অবৈধ বালু পরিবহন বন্ধে টিওরমারী গ্রামবাসী গত ২ মার্চ ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তারপরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল গ্রামবাসীর একটি প্রতিনিধি দল আবারো ইউএনও কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবেদনের ওপর “OC এবং AC (Land) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করুন” মর্মে লিখিত আদেশ ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও’র এই স্পষ্ট নির্দেশনার পরও পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।​

টিওরমারী গ্রামের বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি পুলিশ ও এসিল্যান্ড না আসে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার পাবো? আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

​এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন অভিযান বিলম্বিত হচ্ছে, সে বিষয়েও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

​অবিলম্বে এই বালু দস্যুদের হাত থেকে গ্রাম ও কৃষি জমি রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রংপুর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।