Wednesday, April 15th, 2026, 2:37 pm

জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

 

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলা—খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর বাসিন্দাদের এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হবে। এই ই-হেলথ কার্ড ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করবে। আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং ৮২৩২টি মাদ্রাসায় ‘ফ্রি ওয়াইফাই’ সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ ইতোমধ্যে ভাতা পেয়েছেন।

এছাড়া ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়ার আগেই Certificate of Eligibility (CoE)-এর ভিত্তিতে এই ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর শূন্য পদে ২৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ