পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নে প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে টিওরমারী গ্রামবাসী। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গত ৫ এপ্রিল ওসি এবং এসিল্যান্ডকে যৌথ অভিযানের লিখিত নির্দেশ দিলেও ১৩দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ৭ বছর ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রলি যোগে টিওরমারী গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামের রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ধুলাবালিতে ঘরবাড়ি ও আবাদী জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও তার প্রভাবশালী চক্রের কারণে গ্রামবাসীর জনজীবন এখন বিপন্ন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রাজ্জাকের নির্দেশে রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। গ্রামবাসীর দাবি, বালু দস্যুরা বর্তমানে গ্রামে ঘোষণা দিয়ে ট্রলিতে ছুরি, কুড়াল ও বেকি নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং কেউ বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
নিরাপত্তা চেয়ে ও অবৈধ বালু পরিবহন বন্ধে টিওরমারী গ্রামবাসী গত ২ মার্চ ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তারপরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল গ্রামবাসীর একটি প্রতিনিধি দল আবারো ইউএনও কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবেদনের ওপর “OC এবং AC (Land) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করুন” মর্মে লিখিত আদেশ ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও’র এই স্পষ্ট নির্দেশনার পরও পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
টিওরমারী গ্রামের বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি পুলিশ ও এসিল্যান্ড না আসে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার পাবো? আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন অভিযান বিলম্বিত হচ্ছে, সে বিষয়েও কোনো সদুত্তর মেলেনি।
অবিলম্বে এই বালু দস্যুদের হাত থেকে গ্রাম ও কৃষি জমি রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রংপুর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।


আরও পড়ুন
কুলাউড়ায় তিন প্রেসক্লাবকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেন এমপি শওকতুল ইসলাম
তেল দিতে দেরি হওয়ায় নাটোরে ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, বিক্রি বন্ধ
দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরী বন্ধ; শ্রমিকদের আন্দোলন; অফিসে তালা