দেশজুড়ে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ‘হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’। আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে। এর আগে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রম চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।
রোববার ঢাকার সিভিল সার্জন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া, জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা এবং টিকাদান কভারেজ বৃদ্ধি করা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা প্রদান করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ডোজেই হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা তৈরি হয়, আর দ্বিতীয় ডোজের পর হামের সুরক্ষা প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত।

তবে টিকা নেওয়ার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। শিশুর জ্বর, বমিভাব, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া যাবে না। এছাড়া গত ২৮ দিনের মধ্যে এমআর টিকা নেওয়া থাকলে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগে পুনরায় টিকা দেওয়া হবে না। কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে টিকা নিতে না পারলে পরবর্তীতে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়েই টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ঢাকা জেলায় এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৫ লাখ ৭ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০১ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে এবং নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭২০ জন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, আপনার শিশুদের https://vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে জন্মনিবন্ধন (অনলাইন) সনদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন এবং সময়মতো আপনার শিশুকে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন।
শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মিডিয়াকর্মী এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে একটি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, ইরানের সঙ্গে বসতে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল
ফুটবলারদের ‘ক্রীড়া ভাতা’ দিচ্ছে সরকার, তালিকায় নেই হামজা-শমিত
শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিৎ কি না- প্রশ্নে যা বললেন আফজাল হোসেন