Monday, January 12th, 2026, 6:23 pm

জনসমর্থনে ব্যবধান ১.১ শতাংশ, বিএনপি ৩৪.৭ ও জামায়াত ৩৩.৬ শতাংশ

 

আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। তিনি জানান, জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের মোট ২২,১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে বিএনপি ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৩৩.৬ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোটার সমর্থন পেতে পারে।

বিএনপির সমর্থকরা মূলত দলের অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সততার প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সমর্থন করার পেছনে ৩৬.৭ শতাংশ ভোটার জুলাই বিপ্লবের ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

এছাড়া জরিপে দেখা গেছে, মোট ভোটারের ১৭ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। এর মধ্যে ৩০.১ শতাংশ ভোটার কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না এবং ৩৮.৬ শতাংশ ভোটার কোনো মতামত দেননি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

শফিউল আলম শাহীন আরও বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি প্রকাশ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর মুশতাক খান, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ.কে.এম. ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরু প্রমুখ।

এনএনবাংলা/পিএইচ