Thursday, March 5th, 2026, 7:21 pm

পাম্পে পাম্পে তেল কেনার হিড়িক, দীর্ঘ সারিতে গাড়ি-বাইক

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট বা দাম বৃদ্ধির ‘শঙ্কায়’ ঢাকার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের পাম্পে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অনেক পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কোনো জায়গায় গাড়ির লাইন পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে।

তবে পাম্পকর্মীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক আশঙ্কার কথা তাদের জানানো হয়নি। তাদের ভাষ্য, ‘হুজুগে’ পড়ে অনেকেই বাড়তি তেল নিচ্ছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে।

পাম্প ব্যবসায়ীরাও বলছেন, ক্রেতাদের এই অতিরিক্ত তেল নেওয়াকে তারা স্বাভাবিক চাহিদা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে ‘বাড়তি চাপ’ বলেই মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেই পারস্য উপসাগরে ঢোকার একমাত্র প্রবেশপথ বন্ধে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার বার্তা দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজারে।

বাংলাদেশে এখনো এর সরাসরি প্রভাব না পড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাখালীর রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ‘ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ’ পাম্পে জ্বালানি নিতে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

এই পাম্পে সিএনজিচালিত গাড়ি ও অটোরিকশার জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে এদিন জ্বালানি তেল বিক্রির অংশেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়।

পাম্পটির এক বিক্রয়কর্মী বলেন, সাধারণত এই সময়ে গ্যাসের জন্য গাড়ির চাপ থাকে। কিন্তু গত রাত থেকে তেলের জন্যও চাপ বেড়েছে।

পাম্প থেকে গাড়ির লাইন মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বাড়তি তৎপরতাও দেখা গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার, সম্ভব হলে কার-পুলিং ব্যবস্থা চালু করা এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত বা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সব সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন এবং অফিস শেষে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় করণীয় নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে মন্ত্রণালয়।

পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “আগে এই সময়ে কী পরিমাণ তেল বিক্রি হতো, সে অনুযায়ী হয়তো সেভাবেই আমাদের সরবরাহ দেওয়া হবে।”

এনএনবাংলা/