বর্তমান সংঘাত ইরান শুরু না করলেও যুদ্ধের সমাপ্তি টানার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নেবে—এমন দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রশাসনের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু আমরাই এই যুদ্ধ শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছি।”
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই বক্তব্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে তুলে ধরেন। খবর আল জাজিরা-এর।
মোহাজেরানি বলেন, কোনো ধরনের মধ্যস্থতা বা আলোচনা তখনই সম্ভব হবে যখন কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হামলার সম্পূর্ণ অবসান ঘটবে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা আর হবে না—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
তার মতে, এই নিশ্চয়তাই বর্তমানে ইরানি জনগণের প্রধান দাবি। তিনি বলেন, “বিদ্বেষ ও হামলা পুরোপুরি থামলেই কেবল আলোচনার পথ খোলা হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলেই কেবল তেহরান আলোচনা টেবিলে বসার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
ইরানের মুখপাত্র আশা প্রকাশ করেন যে চলমান শত্রুতা দ্রুত শেষ হবে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইরান আঞ্চলিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত করতে চায় না। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। জনগণের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোহাজেরানির এই মন্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর হুমকির প্রেক্ষাপটে দেওয়া এক ধরনের পাল্টা বার্তা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে তারা যুদ্ধের উস্কানিদাতা নয়। তবে আক্রান্ত হলে সেই যুদ্ধ শেষ করার মতো সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তেহরান যে কেবল সামরিকভাবে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে—তা ইরানের মুখপাত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২২
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি হতে লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা
বাচসাস’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত