দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জন রোগী।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ জন মারা গেছেন। এছাড়া বরিশালে ৫ জন, চট্টগ্রামে ৪ জন, রাজশাহীতে ৩ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, হামের লক্ষণ নিয়ে এ পর্যন্ত ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৩ জন ঢাকা বিভাগে এবং ৬৬ জন রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন। চট্টগ্রামে ১২ জন, খুলনায় ১০ জন এবং বরিশাল ও সিলেটে ৫ জন করে মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৫ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে গেছেন, যাদের মধ্যে ৮০৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এই সময়ে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ৩৬১ জন ভর্তি হয়েছেন, আর ময়মনসিংহে সবচেয়ে কম ১১ জন ভর্তি হয়েছেন।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৬০৬ জন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে ৫ ও ১২ এপ্রিল দুই ধাপে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এতে দেশের ছয়টি বিভাগে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯১ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে নতুন ধাপের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে সোমবার। প্রথম দিনে ১১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তিন সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
দেশজুড়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে ‘হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি’
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ, ইরানের সঙ্গে বসতে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল
ফুটবলারদের ‘ক্রীড়া ভাতা’ দিচ্ছে সরকার, তালিকায় নেই হামজা-শমিত