Tuesday, April 21st, 2026, 11:50 pm

ট্রাম্পের পোস্টেই কমছে, বাড়ছে, দুলছে তেলের বাজার

 

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এখন আর শুধু সরবরাহ-চাহিদা নয়, বড় প্রভাব ফেলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন বাস্তবতা সামনে এসেছে।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘এফটি কমোডিটিস গ্লোবাল সামিট’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী হেজ ফান্ড সিটাডেলের কমোডিটি প্রধান সেবাস্টিয়ান ব্যারাক বলেন, সংঘাত শুরুর পর তেলের বাজারে ভোলাটিলিটি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাজারকে অস্বাভাবিকভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে।”

ব্যারাক জানান, আগে ব্যবসায়ীরা জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘ফিজিক্যাল ফ্লো’ পর্যবেক্ষণ করতেন। কিন্তু এখন ট্রাম্পের তথ্যপ্রবাহ বা ‘ইনফরমেশন স্ট্রিম’ নজরদারি করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তাদের অফিসে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা স্ক্রিন বসানো হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই তথ্য সবসময় নির্ভুল নাও হতে পারে—যা বাজারে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

মার্চের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যায়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

কিন্তু ২৩ মার্চ ট্রাম্প যখন তার প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার কথা জানান, তখনই বাজারে বড় ধস নামে। এর আগেও যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘প্রায় শেষ’ বলে তার আরেকটি পোস্ট বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটায়।

ব্যারাক স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলেও অনেক ব্যবসায়ী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিলেন না। সম্ভাবনা ৫০-৭০ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও বাজারের এই বিশৃঙ্খলা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের লোক ছাড়া অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি এক ধরনের জুয়ার মতো হয়ে গিয়েছিল।”

বর্তমানে সিটাডেল ডিজেল, জেট ফুয়েল ও হিটিং অয়েলের মতো তেলের উপজাতের বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী চাহিদা-সরবরাহ বিশ্লেষণে ‘ডিপ রিসার্চ’ মডেল তৈরিতে কাজ করছে।

ব্যারাকের মতে, “বর্তমান বাজার অত্যন্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর সুযোগগুলো খুব অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয়।”

এনএনবাংলা/