Wednesday, April 15th, 2026, 5:35 pm

ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

 

বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বজায় থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।

আইএমএফ বলছে, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। চলতি বছর ও আগামী বছর জ্বালানি, গ্যাস এবং খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি ১৯৮০ সালের পর সম্ভাব্য পঞ্চম বৈশ্বিক মন্দার সূচনা হতে পারে। এর আগে সর্বশেষ বড় মন্দা দেখা গিয়েছিল করোনা মহামারির সময়।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। একইসঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও চাপের মুখে ফেলবে।

তবে সংকট দ্রুত সমাধান হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে—যদিও এটি আগের পূর্বাভাস ৩.৩ শতাংশের চেয়ে কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বছর ইরানের অর্থনীতি ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি আবার ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

অন্যদিকে, এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশটির বৃহত্তম গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান শিল্প নগরী হামলার শিকার হওয়ায় ২০২৬ সালে কাতারের অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

আইএমএফ আরও উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি অনেকাংশেই জ্বালানি অবকাঠামো ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। যেমন সৌদি আরব নিজস্ব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কারণে বিকল্প পথে তেল পরিবহন করতে পারে। ফলে দেশটির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ৩.১ শতাংশে স্থিত থাকতে পারে।

(প্রতিবেদনটি বিবিসি থেকে নেওয়া।)

এনএনবাংলা/