Wednesday, April 22nd, 2026, 6:01 pm

রংপুরে ৬২০ লিটার ডিজেল ২০লিটার পেট্রোল উদ্ধার, ২০ হাজার টাকা জরিমানা আটক ৩

রংপুর ব্যুরো:

রংপুরে পৃথক ঘটনায়  র‌্যাব ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৬২০ লিটার ডিজেল ,২০লিটার প্রেট্রোল  মজুদ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা  করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন জনকে আটক করে তাদের দুই মাসেরকারাদন্ড  দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ২টার দিকে রংপুর নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জলকরিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার হানিফ (৪০) ও শাহীন (৩৫)।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে আসছিলেন। মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথভাবে পূর্ব জলকরিয়া এলাকার দুটি বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এসময় হানিফের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ লিটার এবং শাহীনের বাড়ি থেকে ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই অভিযুক্তকে দুই মাসের কারাদ্ড প্রদান করা হয়।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা দাবি করেছেন, উদ্ধারকৃত তেল তাদের নয়। শাওন ও সাহেব নামের দুজন ব্যবসায়ী এই তেলগুলো তাদের বাড়িতে সংরক্ষণের জন্য রেখেছিলেন দাবী করেছেন তারা।

এদিকে  সিমেন্টের দোকানের আড়ালে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করার অভিযোগে মাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবারবিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের বিশ্বনাথপুর গ্রামে জেরিন ট্রেডার্সে ও মালিকের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম।

অভিযানে মাহিদুল ইসলামের বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ, সিড়ি, ও খাটের নিচে অভিযান চালিয়ে পাতিল, জারকিন ও ড্রামে মজুদ রাখা ২৫ লিটার পেট্রল ও ৬০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে মাহিদুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান। পরে জব্দ করা পেট্রল ও ডিজেল  স্থাণীয়  ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে ১০ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ব্যবসায়ী মাহিদুল ইসলাম সিমেন্টের দোকানের আড়ালে সেখানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে দ্বিগুন দামে বিক্রি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোনো ব্যবসায়ী যাতে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে এজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও অবৈধ মজুত রোধে এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।