হরমুজ প্রণালির পশ্চিম দিকে আটকে থাকা কিছু নৌযানের পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে প্রতারকরা ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে নিরাপদে প্রণালি পার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুয়া বার্তা পাঠিয়েছে বলে সতর্ক করেছে সমুদ্র ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা গ্রিক কোম্পানি মারিস্ক।
মারিস্ক জানায়, এসব প্রতারক নিজেদের ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নৌযান কোম্পানিগুলোর কাছে বিটকয়েন (BTC) বা টেদার (USDT) চেয়ে বার্তা পাঠাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, “কাগজপত্র জমা ও ইরানি কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি নির্ধারণ করা হবে, এরপর নির্দিষ্ট সময়ে নৌযানকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।”
তবে মারিস্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বার্তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরান একসময় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নিলেও পরে আবার বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল সীমিত করে দেয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।
যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় তেহরান এই জলপথ ব্যবহারকারী নৌযান থেকে টোল আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মারিস্কের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, উপসাগরে বর্তমানে কয়েকশ নৌযান ও প্রায় বিশ হাজার নাবিক আটকে আছেন। ইরান কিছু সময়ের জন্য প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা দিলে শনিবার কয়েকটি নৌযান পার হওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরে অন্তত দুটি নৌযান জানায়, ইরানি নৌকা থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এর মধ্যে অন্তত একটি নৌযান ওই ভুয়া ক্রিপ্টো বার্তার প্রতারণার শিকার হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স, এবং কোন কোম্পানিগুলো এসব বার্তা পেয়েছে তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
ঘোষণা ছাড়াই বাস ভাড়া বৃদ্ধি, বিপাকে নগরবাসী
পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে, প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী
ভাসমান টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা