Saturday, February 28th, 2026, 9:39 pm

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধান নিহত

 

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার প্রথম ঢেউতেই তারা প্রাণ হারান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাতে বলা হয়েছে, অভিযানটি ইরানের পক্ষ থেকে আসা ‘অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি’ মোকাবিলার জন্য নেওয়া একটি আগাম পদক্ষেপ।

সকালেই তেহরান, ইসফাহান এবং কোমসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’, আর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

হামলা কেবল সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তুই হয়নি; তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছে থাকা এলাকাতেও আঘাত হানা হয়েছে। তবে জানা গেছে, খামেনি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। হামলায় একটি স্কুলে আঘাত হানার ফলে অন্তত ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান হামলার ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসী শাসন’ উৎখাতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত এবং বিভিন্ন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।