দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক চাপ মোকাবিলায় আজ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল—এই তিন ধরনের জ্বালানিতেই অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এতদিন সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় চাহিদার ভিত্তিতে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এর সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে প্রায় ৮০ হাজার টন ডিজেল সংরক্ষিত রয়েছে।
সরবরাহ সীমিত থাকায় চলতি মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত আছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। ভোক্তা পর্যায়ের চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন অকটেন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় ১ হাজার ১৮৫ টন।
পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন পেট্রল। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এর সঙ্গে আরও ১৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বছরে জ্বালানির চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাই বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এ উদ্যোগের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুতের প্রবণতা কমবে এবং জ্বালানি বিক্রয় ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১,৯৪০ টাকা
‘ইরানকে পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ট্রাম্প কে?’—প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রশ্ন
আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী